উচ্চশিক্ষা শেষে প্রচলিত চাকরির নিরাপদ পথ বেছে নেওয়ার পরিবর্তে নিজের আগ্রহ ও উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা ফাহাদ হোসেন রাফি। মালয়েশিয়া থেকে স্নাতক এবং সুইডেন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর দেশে ফিরে অটোমোবাইল ব্যবসায় নিজের অবস্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন তিনি। বর্তমানে তিনি ‘এ আর কার সিলেকশন’-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে কাজ করছেন।
উচ্চশিক্ষা থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত
ফাহাদ হোসেন রাফি মালয়েশিয়ায় স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর সুইডেন থেকে উচ্চতর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে প্রচলিত চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তার আগ্রহের জায়গা ছিল অটোমোবাইল খাত। সেই আগ্রহ থেকেই ছোট পরিসরে গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে নিজের উদ্যোগকে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যান তিনি।
প্রচলিত পেশার বাইরে নিজের পথ
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে বিসিএস কিংবা প্রতিষ্ঠিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিকে অনেকেই পেশাগত সাফল্যের পরিচিত পথ হিসেবে বিবেচনা করেন। ফাহাদ হোসেন রাফি সেই প্রচলিত পথের পরিবর্তে নিজের পছন্দের পেশাকে বেছে নিয়েছেন।
তার পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের অনেকেই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। চাইলে সেই ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি নিজের পরিচয় ও অবস্থান নিজ প্রচেষ্টায় তৈরি করতে চেয়েছেন। পরিবারের অমত ও প্রচলিত প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে নিজের আগ্রহকে পেশায় রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ফাহাদের বিশ্বাস, যে কাজের প্রতি মানুষের আন্তরিক আগ্রহ থাকে, সেই কাজ শেখা ও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহও বেশি থাকে। তাই শুধু সামাজিক প্রত্যাশা বা অন্যের পরামর্শের ভিত্তিতে নয়, নিজের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিয়েই পেশা নির্বাচন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
‘এ আর কার সিলেকশন’ গড়ে তোলার গল্প
নিজের উদ্যোগে ‘এ আর কার সিলেকশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন ফাহাদ হোসেন রাফি। পরিবারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার পরিচিত পরিবেশে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে নতুন একটি উদ্যোগ গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন তিনি।
অটোমোবাইল ব্যবসায় বাজারের চাহিদা বোঝা, ক্রেতার আস্থা অর্জন এবং প্রতিযোগিতার মধ্যে টিকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন ফাহাদ।
তার উদ্যোগের মূল ভাবনা হলো, পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আগ্রহ ও স্বাধীন সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া। তার মতে, যে কাজকে কেবল জীবিকা নয়, শেখা ও বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখা যায়, সেই কাজে দীর্ঘদিন মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতি বার্তা
তরুণদের উদ্দেশে ফাহাদ হোসেন রাফির পরামর্শ, শুধু পরিবার বা সমাজের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে পেশা নির্বাচন করা উচিত নয়। নিজের আগ্রহ, দক্ষতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষায়, “কারো চাপে বা সমাজ চায় বলে কোনো পেশা বেছে নেওয়া উচিত নয়। যার যেটা ভালো লাগে এবং যেটাতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, ঠিক সেই পেশায়ই যাওয়া উচিত।”
তার মতে, নিজের পছন্দের কাজে যুক্ত থাকলে কাজের প্রতি আগ্রহ বজায় রাখা এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে পছন্দের পেশায় এগিয়ে যেতে পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মানসিকতাও জরুরি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড
বর্তমান ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে নতুন আন্তর্জাতিক গাড়ির ব্র্যান্ড বা ডিলারশিপ নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে ফাহাদ হোসেন রাফির। তার দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্নের মধ্যে রয়েছে এমন কোনো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডকে বাংলাদেশের বাজারে পরিচিত করা, যা এখনো এখানে প্রবেশ করেনি। এ ক্ষেত্রে টেসলার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের উদাহরণ দিয়েছেন তিনি।
তার লক্ষ্য, অটোমোবাইল খাতে নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা এবং প্রচলিত ব্যবসার গণ্ডির বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের উদ্যোগের সুযোগ তৈরি করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিজের বর্তমান ব্যবসাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাবনাগুলো নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
উচ্চশিক্ষা শেষে পরিচিত পেশাগত পথের বাইরে গিয়ে নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে ফাহাদ হোসেন রাফি তরুণদের জন্য একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতার উদাহরণ তুলে ধরছেন। নিজের আগ্রহকে পেশায় রূপ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই তার উদ্যোক্তা-জীবনের মূল প্রেরণা।

কালের দাবি ডেস্ক