রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. খোকন ও রাজীব মাতুব্বর। ডিবির দাবি, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, র্যাব-২ গত ৩০ আগস্ট যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, তাঁদের রনজিলা পারভিন হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার তিনজন হলেন মোটরসাইকেল মালিক রাকিব, পনি ও সেড্রিক। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ডিবির ভাষ্য, তাঁদের একজনের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পরও রনজিলা হত্যার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
এর আগে র্যাব জানিয়েছিল, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরে ওই মোটরসাইকেলের রং ও ঘটনার সময় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের রঙের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেল এবং র্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি একই নয়। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নতুন দুজনকে শনাক্ত করা হয়।
ডিবির দাবি, নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া খোকন ও রাজীব দুজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় খোকন মোটরসাইকেলের পেছনে বসেছিলেন। তিনিই রনজিলা পারভিনের ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দিয়ে সেটি নিয়ে যান।
খোকনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের মধ্যে তাঁর ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল।
ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনটিও পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে সাভারের বিরুলিয়া এলাকা থেকে রাজীব মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রাজীবই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন।
রাজীবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজীবের হেফাজত থেকে ৬২২টি ইয়াবা বড়িও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, রাজীবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে।
তাঁরা ঢাকা মহানগর এলাকায় আরও কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, ঘটনার সময় রনজিলা পারভীনের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন ছিনতাইকারীকে স্পষ্টভাবে দেখেছিলেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাগ টান দেওয়ার সময় ছিনতাইকারী একবার তাঁদের দিকে মাথা ঘুরিয়েছিল। তখন তিনি তাকে দেখেন। পেছনে থাকা খোকনকেও তিনি শনাক্ত করেছেন বলে ডিবিকে জানিয়েছেন।
র্যাবের আগে গ্রেপ্তার করা তিনজনের সঙ্গে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া খোকন ও রাজীবের কোনো যোগাযোগ বা পরিচয় রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ডিবির ভাষ্য, আগের তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাঁদের মামলাটি থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে অন্য কোনো মামলায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা থাকলে সেসব মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া চলবে।
গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পূর্ব প্রান্তে জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের পর খেজুরবাগানের মুখে রিকশায় ছিনতাইয়ের শিকার হন রনজিলা পারভিন।
ছিনতাইকারীরা তাঁর ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
ডিবির বক্তব্য অনুযায়ী, র্যাবের প্রাথমিক তদন্তের পর নতুন করে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই খোকন ও রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে আগের তিনজনের সঙ্গে নতুন গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না এবং নতুন দুজনের বিরুদ্ধে আরও কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না—এসব বিষয়ও তদন্তাধীন রয়েছে।

কালের দাবি ডেস্ক