ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কঙ্গো ভয় কাটিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 2, 2026 ইং
কঙ্গো ভয় কাটিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড ছবির ক্যাপশন: ইংল্যান্ড
ad728

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বড় ধরনের অঘটনের শঙ্কায় পড়েও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জোরে জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়া থ্রি লায়ন্সরা অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোর টিকিট।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব-৩২-এর এই ম্যাচে শুরু থেকেই চমক দেখায় ডিআর কঙ্গো। মাত্র সপ্তম মিনিটেই ইংলিশ রক্ষণভাগকে অবাক করে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। চ্যান্সেল এমবেম্বার নিখুঁত দীর্ঘ পাস থেকে বল পেয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান ব্রায়ান সিপেঙ্গা। পরে নিচু শটে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল সিপেঙ্গার প্রথম গোল, আর সেটিও আসে বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে।

প্রথম দিকে গোল হজম করে কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ডিআর কঙ্গোর দ্রুতগতির আক্রমণ ও সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে বেশ কয়েকবার বিপদে পড়ে থমাস টুখেলের দল। ১৯তম মিনিটে হতাশা থেকে কঠিন ট্যাকল করে হলুদ কার্ড দেখেন জুড বেলিংহ্যাম।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ইংল্যান্ড। ৩০তম মিনিটে ডেকলান রাইসের দারুণ ক্রস থেকে বেলিংহ্যামের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। পাঁচ মিনিট পর ননি মাদুয়েকের ক্রস থেকে মার্কাস রাশফোর্ডের প্রায় নিশ্চিত গোলও গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল ডিআর কঙ্গো। ৪২তম মিনিটে ওয়ান-বিসাকার ক্রস থেকে ইয়োয়ান উইসার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, যোগ করা সময়ে বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনের দুটি প্রচেষ্টাও রুখে দেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এমপাসি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ডিআর কঙ্গো।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ান ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। ৬১তম মিনিটে বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনকে মাঠে নামিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তিনি। এই পরিবর্তনের সুফলও আসে দ্রুত।

ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের দারুণ ক্রসে অসাধারণ হেডে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। গোল পাওয়ার পর নতুন উদ্যমে আক্রমণ চালাতে থাকে থ্রি লায়ন্সরা।

অবশেষে ৮৬তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোল। ডিআর কঙ্গোর একটি আক্রমণ প্রতিহত করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যামের শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এমপাসি। তবে ফিরতি বলে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান হ্যারি কেইন। টুর্নামেন্টে এটি ছিল ইংল্যান্ড অধিনায়কের পঞ্চম গোল।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় ডিআর কঙ্গো। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেলেও ইয়োয়ান উইসার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং হ্যারি কেইনের অনবদ্য পারফরম্যান্সে ভর করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, সাহসী ও লড়াকু পারফরম্যান্স উপহার দিয়েও নকআউট পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ডিআর কঙ্গোকে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
কালের দাবি ডেস্ক

কালের দাবি ডেস্ক

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস