ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৬৯ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের মধ্যে ৩০ লাখ অকার্যকর : চিফ হুইপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 23, 2026 ইং
৬৯ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের মধ্যে ৩০ লাখ অকার্যকর : চিফ হুইপ ছবির ক্যাপশন: পরিকল্পনাহীনতায় অকেজো ৩০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম, চীনের সঙ্গে বড় চুক্তির ইঙ্গিত চিফ হুইপের
ad728

মাঠপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন এবং দ্রুত গ্রিড বিদ্যুৎ সম্প্রসারণের কারণে দেশে বিগত দিনে বসানো প্রায় ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের অর্ধেক বা প্রায় ৩০ লাখ সিস্টেমই বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো ও অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানী ঢাকায় গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে এই তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

চিফ হুইপ তার বক্তব্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক উন্নয়নে সরকার বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরে সোলার খাতের উন্নয়নে চীনের সঙ্গে একটি বড় ধরনের চুক্তি সই হতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

সোলার হোম সিস্টেমের বর্তমান চিত্র ও সংকট

সংলাপে মূল প্রবন্ধে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও সহযোগী এনজিওর মাধ্যমে দেশে গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক হারে সোলার প্যানেল ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সমন্বয়হীনতার কারণে এই বিশাল খাতটি সংকটে পড়ে।

  • মোট স্থাপিত সিস্টেম: প্রায় ৬০ লাখ।

  • অকেজো/অকার্যকর সিস্টেম: প্রায় ৩০ লাখ (মোট স্থাপনার প্রায় অর্ধেক)।

  • সংকটের মূল কারণ: মাঠপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং সোলার স্থাপনের পরপরই ওইসব এলাকায় দ্রুত গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছে যাওয়া। এর ফলে গ্রাহকরা সোলার বাদ দিয়ে গ্রিডের বিদ্যুতে স্থানান্তরিত হন এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লাখ লাখ প্যানেল অকেজো হয়ে পড়ে।

উত্তরণের উপায় ও সুপারিশ

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেন:

  1. জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন: স্রেডার (SREDA) নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা, যারা নতুন সোলার স্থাপনের পাশাপাশি রিয়েল-টাইম ডেটা সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যমান সোলারের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা মনিটর করবে।

  2. পুরোনো সিস্টেমের রূপান্তর: অকেজো পড়ে থাকা পুরোনো সোলার হোম সিস্টেমগুলোকে হাইব্রিড বা গ্রিড-টাইড সিস্টেমে রূপান্তর করা।

  3. আমদানিতে শুল্ক ছাড়: সর্বস্তরের ব্যবহারকারীদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সোলারসহ সব ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানিসামগ্রী আমদানিতে শূন্য শুল্ক-সুবিধা প্রদান করা।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, "আধুনিক সভ্যতায় বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি কল্পনা করা যায় না। সরকার সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি টেকসই ও আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।" এ জন্য তিনি সরকারি-private (বেসরকারি) অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’তে শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’তে শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি