ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হাসিনাকে ঘিরে টানাপড়েনে আটকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিকের চেষ্টা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 21, 2026 ইং
হাসিনাকে ঘিরে টানাপড়েনে আটকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিকের চেষ্টা ছবির ক্যাপশন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
ad728

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ''দ্য প্রিন্ট''-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। এখন সেই দ্বিপক্ষীয় টানাপড়েন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণ এবং শরীফ ওসমান হাদীর সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে এসব বিষয়ে অগ্রগতি প্রয়োজন।


দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ কিংবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বিরোধের কারণে সেই সফর নিয়ে প্রত্যাশা কমে এসেছে।

গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দেন। অডিও কলের মাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।

এর আগে ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতকে শেখ হাসিনার অবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের আশঙ্কা ছিল, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।'দ্য প্রিন্টকে বাংলাদেশের একটি সরকারি সূত্র বলেছে, ঢাকা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক চায়। তবে ভারতের উচিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গেও নয়াদিল্লি একমত নয়।


দ্য প্রিন্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভারত-নীতি নিয়েও রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়।

এ অবস্থায় তারেক রহমানকে একদিকে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে দিল্লির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর চাপও সামলাতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য প্রিন্ট আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে অভিবাসন, পানিবণ্টন এবং গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ রয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এ চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য ঢাকা গত জুনে দিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।


দ্য প্রিন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক টানাপড়েনের মধ্যেও ভারত এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে’ এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছে। সংবাদমাধ্যমটি এটিকে নয়াদিল্লির অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছে।

এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে তারেক রহমানের ভারত সফরের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত ১০ আগস্ট তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পরদিন নয়াদিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকার অবস্থান সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন ত্রিবেদী।

গত কয়েক মাসে দুই দেশের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে বলে দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে। তবে শেখ হাসিনাকে ঘিরে সর্বশেষ বিরোধ এবং তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।


শেখ হাসিনা ইস্যুতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কে আরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের একটি সূত্র দ্য প্রিন্টকে জানিয়েছে, তারেক রহমান দিল্লি সফর না করলে অচলাবস্থা কাটাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

দিল্লির পক্ষ থেকে সম্পর্ক সচল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সরবরাহ সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছে ভারত।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুবাশ্বার হাসান দ্য প্রিন্টকে বলেছেন, ভারতের প্রতি ঢাকার কঠোর অবস্থান তারেক রহমানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।

তবে তাঁর মতে,এ ধরনের নীতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর না-ও হতে পারে এবং এর ফলে সম্পর্কের মূল্য দিতে হতে পারে বাংলাদেশকে।

দ্য প্রিন্ট


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন