ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আটক বন্ধ করুন’: এইচআরডব্লিউ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 24, 2026 ইং
প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আটক বন্ধ করুন’: এইচআরডব্লিউ ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত
ad728

বিচার শুরুর আগে রাজনৈতিক বিরোধীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে আটক রাখার অবসানে বাংলাদেশ সরকারের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হাজারো মানুষকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে শত শত ব্যক্তি কোনো অপরাধে অভিযুক্ত না হয়েও এখনো কারাগারে রয়েছেন বলে দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ।

সংস্থাটির এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলাইন পিয়ারসন বলেন, এক সরকারের পর আরেক সরকারের আমলে বিরোধীপক্ষের শত শত সদস্যকে কোনো প্রমাণ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কারাগারে রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিন ইচ্ছেমতো আটক রাখার অবসান করা উচিত।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু কর্মকর্তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগের দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। তাঁদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, কর্মী, সাংবাদিক এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও আটক রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গুমসহ গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।

এইচআরডব্লিউ অভিযোগ করেছে, যেসব মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায়ও প্রসিকিউটররা বারবার জামিনের বিরোধিতা করছেন। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো ধারাবাহিকভাবে জামিন আবেদন নাকচ করছে। এমনকি হাইকোর্ট জামিন দিলেও নতুন মামলা দিয়ে মুক্তি আটকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।

এ ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের উদাহরণ তুলে ধরেছে এইচআরডব্লিউ। ৮২ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধান বিচারপতিকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তারের পর একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অসুস্থতার মধ্যেও তাঁর জামিনের আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে নাকচ করা হয়। হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পরও নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনা ঘটে। আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপের পর ১৯ আগস্ট তিনি মুক্তি পান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আটক ব্যক্তিদের বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই ট্রাইব্যুনালে আটক ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তির কেউ এখন পর্যন্ত জামিনে মুক্তি পাননি। এসব ব্যক্তির জামিন আবেদন নাকচ হলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বিচার শুরুর আগে আটক রাখা বা শর্তসাপেক্ষে মুক্তির কিছু সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের আটক ব্যতিক্রম হওয়া উচিত, নিয়ম নয়। প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে আটকাদেশ আইনসংগত ও প্রয়োজনীয় কি না, তা বিচারক বা সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা করা উচিত।

এলাইন পিয়ারসন বলেন, বিচার শুরুর আগেই কারাগারে প্রবীণ ব্যক্তিদের মৃত্যুর ঘটনা দেখিয়ে দেয় যে আটককে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তাঁর মতে, সরকারের নজরদারিতে কারাগারে যেসব মৃত্যু হয়েছে, সেগুলোর স্বাধীন তদন্ত করা এবং অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘদিন আটক রাখার প্রথা বন্ধ করা উচিত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আবারও ভূমিকম্প, প্রস্তুত তো ঢাকা?

আবারও ভূমিকম্প, প্রস্তুত তো ঢাকা?