রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার রাত ৯টা ২৮ মিনিটে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এ কম্পনে অনেকেই বাসা ও ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.০। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায়, যা আগারগাঁওয়ের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.৪ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফা মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো একটি মৃদু ভূমিকম্পকে সরাসরি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যায় না। তবে বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করে আসছেন। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ডাউকি ফল্ট এবং পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ভূ-গাঠনিক অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিদ্যমান বলে মনে করেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ, নিয়মিত মহড়া পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। রাজধানীর ঘনবসতি, সরু সড়ক ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে উদ্ধার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালের দাবি ডেস্ক