জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক অর্জনকে দলীয় বা গোষ্ঠীগত মালিকানার দ্বন্দ্বে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, মাত্র দুই বছরের মধ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মৌলিক চেতনা থেকে রাজনৈতিক দলগুলো অনেকটাই সরে এসেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পার্টির সংহতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় রাজনৈতিক প্রস্তাবনা উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, বৈষম্য বিলোপের ডাক নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হলেও গত দুই বছরে রাষ্ট্র উল্টো পথে হাঁটছে। এই সময়ে বৈষম্য, বেকারত্ব, কর্মহীনতা ও আয়বৈষম্য আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে না-খাওয়া ও পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেড় কোটি মানুষ গুরুতর খাদ্য সংকটে রয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ব্যাহত হবে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে সাইফুল হক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী উত্থাপন করা হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, মাহমুদ হোসেন, সজীব সরকার রতন, রাশিদা বেগম, ফিরোজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল করিম টিপু, সাইফুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান মাসুদ, নির্মল বড়ুয়া মিলন, মাহমুদুল হাসান পিপলু, সাইফুর রেজা মামুন, মীর রেজাউল আলম, জসিম রাঢ়ী, ফিরোজ আলী, জুঁহ চাকমা, আউয়াল মাহমুদ, জামাল সিকদার, আবু হানিফ, আবুল কালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সভায় পার্টির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে কয়েকটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এর আগে সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শ্রমিক শহীদ বদিউজ্জামান ও আবদুল লতিফের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কালের দাবি ডেস্ক