ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জিন্নাহর ছবি রাখার ঘটনা ছাড়াও ডাকসুর আরও দুটি কার্যক্রম তদন্ত করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য একটি ওয়েবসাইট চালু করা। অন্যটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আরেকটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও বিধিমালার চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারার নোট অনুযায়ী, ছাত্র সংসদের যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিতে হয়।
প্রশাসনের দাবি, এসব বিধান অনুসরণ না করেই ডাকসুর পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এ কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
প্রশাসনের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এ ধরনের ছবি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়। প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরই মধ্যে সংগ্রহশালায় রাখা জিন্নাহর তিনটি ছবি এক শিক্ষার্থী ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে জানা গেছে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য আলাদা ওয়েবসাইট চালু করার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া আলাদা মূল্যায়নব্যবস্থা চালু করতে পারে না।
প্রশাসন আরও বলেছে, ওই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী তদন্ত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।
ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হতে হবে।
প্রশাসনের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডাকসুর এসব কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের দাবি ডেস্ক