বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে ডলার সংকট নেই।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মূলত সরকারের আন্তর্জাতিক দায়-দেনা পরিশোধ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট, নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট এবং নগদ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত মিলিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ২.১৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তারল্য রয়েছে।
তিনি জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং অন্যান্য বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস থেকে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে থাকে। প্রয়োজন হলে আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকেও ডলার সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।
এলসি (ঋণপত্র) খোলা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমদানি ঋণপত্র খোলার সক্ষমতা মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ও ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) সীমা অনুসরণ করেই ব্যাংকগুলো বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে এবং বিনিময় হারও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। ফলে আমদানি ঋণপত্র খোলা কিংবা আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনায় সার্বিকভাবে কোনো ডলার সংকট নেই।
সরকার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।

কালের দাবি ডেস্ক