ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে শুধু ফ্রান্সেই অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে আগামী দিনগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সময়ে দেশটিতে মৃত্যুর হার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ৪৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজধানী প্যারিসে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, যেখানে একই সময়ে মৃত্যুহার বেড়েছে ৬২ শতাংশ।
গত ২৪ জুন ফ্রান্সে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ওইদিন রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছিল।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, তাপপ্রবাহজনিত সব মৃত্যুর তথ্য এখনো সম্পূর্ণভাবে সংগ্রহ করা হয়নি।
শুধু ফ্রান্স নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তীব্র গরমের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বেলজিয়ামে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটিতে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৮৫ বছরের বেশি।
এদিকে নেদারল্যান্ডসেও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে গত সপ্তাহে প্রায় ৪৮০ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সে দাবদাহের আরেকটি উদ্বেগজনক প্রভাব দেখা গেছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন থেকে এখন পর্যন্ত পানিতে ডুবে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আটলান্টিক মহাসাগরের আজোরেস অঞ্চল থেকে পর্তুগাল ও স্পেনমুখী একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়লেও ইউরোপে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু সেবার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ, যেখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সংকট হিসেবে বিবেচনা করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ জরুরি প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
কালের দাবি ডেস্ক