তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। একইসঙ্গে হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালের মর্গ ও জরুরি বিভাগগুলোতে নতুন রোগী ও মরদেহ রাখার জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার আগে ফ্রান্সে প্রতিদিন গড়ে ৯০০ থেকে এক হাজার মানুষের মৃত্যু হতো। তবে গত বুধবার (২৪ জুন) দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার পর একদিনেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে যায়।
পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ শুক্রবার (২৫ জুন) ও শনিবার (২৬ জুন), দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণরা। মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশই এই বয়সী মানুষের। বিশেষ করে রাজধানী প্যারিস এবং এর আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলের কেয়ার হোম ও বহুতল ভবনের ওপরের তলায় একাকী বসবাসকারী প্রবীণদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে মানুষের অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোক, তীব্র পানিশূন্যতা এবং হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যারিস নগর কর্তৃপক্ষ শহরের প্রধান পার্কগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি মিউনিসিপ্যাল হলগুলোকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ‘কুলিং সেন্টার’-এ রূপান্তর করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়তে পারে।
কালের দাবি ডেস্ক