ঢাকা | বঙ্গাব্দ

খামেনির জানাজা শুধু শোক নয়, বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিচ্ছে তেহরান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 4, 2026 ইং
খামেনির জানাজা শুধু শোক নয়, বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিচ্ছে তেহরান ছবির ক্যাপশন: তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনী ও তাঁর পরিবারের কফিনে দেশি-বিদেশি কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা। ছবি: আত্তা কেনারে/এএফপি
ad728
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ও শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিশাল আয়োজনকে কেবল একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। 

ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিলিয়ন মানুষ এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। তেহরানের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শহর এবং প্রতিবেশী ইরাকের কয়েকটি পবিত্র শিয়া নগরীতেও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সামরিক বাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয়, ধর্মীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে এই আয়োজন সফল করতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় আয়োজন। 

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ইরান এই আয়োজনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সংহতি জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি রাজনৈতিক বার্তাও দিতে চাইছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি ইরানের অবস্থান এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

শোকানুষ্ঠান উপলক্ষে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক নেতৃত্ব, ধর্মীয় আলেম, বিদেশি প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানান। পরে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মরদেহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ শেষে মাশহাদে দাফন করা হবে। 


অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেয়। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এ আয়োজনকে জাতীয় শোক ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটি একই সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরারও একটি কৌশল। 


ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শোকানুষ্ঠান চলাকালে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির দ্রুত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত নেই। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই অনুপস্থিতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।


অন্যদিকে, তেহরানের কয়েকজন বাসিন্দা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিশাল এই আয়োজনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহেও সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার বলছে, জনগণের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান শোকানুষ্ঠান নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন "ইরানকে এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছে"। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


পর্যবেক্ষকদের মতে, খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুধু একজন নেতার বিদায় অনুষ্ঠান নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান, জাতীয় সংহতি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
কালের দাবি ডেস্ক

কালের দাবি ডেস্ক

সর্বশেষ সংবাদ
তিস্তা নিয়ে ঢাকা-বেইজিং ঐকমত্য, উত্তরাঞ্চলের জন্য খুলছে নতু

তিস্তা নিয়ে ঢাকা-বেইজিং ঐকমত্য, উত্তরাঞ্চলের জন্য খুলছে নতু