বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় ম্যাচে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বেলজিয়াম। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে দুই গোল শোধ করে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইউরি গার্সিয়ার শিষ্যরা। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেও হতাশার বিদায় নিতে হয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধি সেনেগালকে।
ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। তখন মনে হচ্ছিল, সহজ জয় নিয়েই তারা পরের রাউন্ডে পা রাখবে। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম। নির্ধারিত সময় ২-২ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় লড়াই।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। ১৪তম মিনিটে ইসমাইলা সারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ২৫তম মিনিটে আর ভুল হয়নি। সাদিও মানের দুর্দান্ত ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় বল জালে জড়ান হাবিব দিয়ারা।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে আফ্রিকান দলটি। ৫১তম মিনিটে মুসা নিয়াখাতের দীর্ঘ পাস নিয়ন্ত্রণে এনে চমৎকার ভলিতে বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইসমাইলা সার। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার চতুর্থ গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর একের পর এক পরিবর্তন আনেন বেলজিয়াম কোচ। বিরতির পর মাঠে নামানো হয় রোমেলু লুকাকুকে। পরে ডোদি লুকেবাকিও, দিয়েগো মোরেইরা ও থমাস মুনিয়েরকে নামিয়ে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
শেষ পর্যন্ত সেই পরিবর্তনের সুফল আসে ম্যাচের অন্তিম সময়ে। ৮৬তম মিনিটে মুনিয়েরের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে ব্যবধান কমান লুকাকু। এরপর মাত্র তিন মিনিট পর, ৮৯তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রসে হেডে গোল করে সমতায় ফেরান ইউরি তিলেমান্স।
২-২ সমতায় নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে সতর্ক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হবে টাইব্রেকারে, তখনই আসে সবচেয়ে বিতর্কিত ও নাটকীয় মুহূর্ত।
অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে দিয়েগো মোরেইরার ক্রস থেকে ডোদি লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লাগে। একই আক্রমণে বক্সের ভেতর ইউরি তিলেমান্সকে ফাউল করেন লামিন কামারা। প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও পরে ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি দেন রেফারি।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সেনেগালের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ১২৫তম মিনিটে স্পট কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি তিলেমান্স। নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেন তিনি।
শেষ মুহূর্তে সেনেগাল আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ সুযোগটিও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা। ফলে রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় বেলজিয়াম।
পুরো ম্যাচে দীর্ঘ সময় সেনেগালই ছিল এগিয়ে থাকা দল। তবে শেষ কয়েক মিনিটে অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় অসম্ভবকে সম্ভব করেছে বেলজিয়াম। অন্যদিকে, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তের হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপকে বিদায় বলতে হলো সাদিও মানেদের।
কালের দাবি ডেস্ক