ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চীনের ১১ প্রতিষ্ঠানের ৯.২১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব, নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বাংলাদেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 28, 2026 ইং
চীনের ১১ প্রতিষ্ঠানের ৯.২১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব, নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বাংলাদেশ ছবির ক্যাপশন: চীনের ১১ প্রতিষ্ঠানের ৯.২১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব
ad728

বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, শিক্ষা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিল্পখাতে মোট ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও শীর্ষ কর্মকর্তারা বিনিয়োগ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

গত ২৫ জুন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। শনিবার (২৭ জুন) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করনীতি-সংক্রান্ত পূর্বাভাস (ট্যাক্স আউটলুক) প্রকাশ করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে নীতিগত স্থিতিশীলতার ইতিবাচক বার্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী মহলে সাড়া ফেলেছে।

বৈঠকে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন খাতে বড় আকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। এর মধ্যে গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, মোংলা বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল ও লজিস্টিকস উন্নয়ন, স্মার্ট বৈদ্যুতিক মিটার উৎপাদন, কোল্ড-চেইন অবকাঠামো, পুনর্ব্যবহৃত তুলা ও লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন, ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, রেলওয়ে যন্ত্রাংশ সংযোজন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিপিপি প্রকল্প, আধুনিক কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনা ভেষজ উদ্ভিদভিত্তিক শিল্প স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে।

সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে, যেখানে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ। এছাড়া পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার শিল্পে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে ৮৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনাও উল্লেখযোগ্য।

মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন ও বন্ডেড গুদাম নির্মাণের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উৎপাদনশীল শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন, প্রযুক্তি এবং রপ্তানিমুখী খাতে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রকল্প অনুমোদন, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চীনে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন

চীনে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন