ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পানি কমলেও দুর্ভোগের শেষ নাই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 15, 2026 ইং
পানি কমলেও দুর্ভোগের শেষ নাই ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

সাত জেলার বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কাটেনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেক পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরলেও ধসে পড়া ঘর, কাদায় ভরা বসতবাড়ি, নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল এবং জীবিকা হারানোর বাস্তবতায় নতুন করে টিকে থাকার লড়াই শুরু হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যায় দেশের ৫৯টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৭ জন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ এবং পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১।

প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১৪ হাজার ৩০০ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি মাছের ঘের ও জলাশয়ের ব্যাপক ক্ষতির কারণে মৎস্য খাতে প্রায় ৩৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া এবং সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

চট্টগ্রামে বন্যার সবচেয়ে বড় ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি, সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও মৎস্য খাত মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। জেলার হাজার হাজার বসতঘর, শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারেও বন্যার প্রভাব এখনো স্পষ্ট। কোথাও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও কৃষিজমি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং অনেক মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

সরকার জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও শিশুখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করতে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, পানি নেমে গেলেও ঘরে ফিরে বসবাসের মতো পরিবেশ নেই। কাদা পরিষ্কার, ঘর মেরামত এবং নতুন করে জীবিকা শুরু করতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জরুরি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, কৃষি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের মতে, সমন্বিত পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন না হলে বন্যার প্রকৃত প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করতে হবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
তিস্তা নিয়ে ঢাকা-বেইজিং ঐকমত্য, উত্তরাঞ্চলের জন্য খুলছে নতু

তিস্তা নিয়ে ঢাকা-বেইজিং ঐকমত্য, উত্তরাঞ্চলের জন্য খুলছে নতু