জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় রাত্রিকালীন কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। নতুন করে ২৪ অক্টোবর বিক্ষোভের ডাক আসার আগে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক ও লেস হ্যালস শপিং এলাকা, লিঁওসহ বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কারফিউ কার্যকর রয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে প্যারিস ও লিঁওতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতার মধ্যে লিমোজে শহরের একটি ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভের শুরুতে সহিংসতার ব্যাপকতা সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, আন্দোলনকারীদের যুক্তিসংগত দাবিগুলো সরকার শুনবে। তবে ভাঙচুর ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্যারিসের উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ ভবন ও শিক্ষকসংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে ট্রেড ইউনিয়ন ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মীরা এতে যুক্ত হন। একপর্যায়ে আন্দোলনটি জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদে রূপ নেয়।
সরকার সবচেয়ে সংকটপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে তিন হাজারের বেশি বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। তবে দেশটির বিপুল সরকারি ঋণ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
আগামী ২৪ অক্টোবরের নতুন বিক্ষোভের ডাককে সামনে রেখে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।

কালের দাবি ডেস্ক