ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দূরপাল্লার বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা, শহরে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 21, 2026 ইং
দূরপাল্লার বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা, শহরে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব ছবির ক্যাপশন: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর দূরপাল্লা ও শহরের বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিআরটিএ।
ad728

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে দেশে বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২০ পয়সা এবং রাজধানীসহ শহরাঞ্চলে কিলোমিটারপ্রতি ১৮ পয়সা বাড়তে পারে।

বিআরটিএর পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধির এই প্রস্তাব সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে ভাড়া কত বাড়বে, সে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন ভাড়া কার্যকর করা হবে।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, এবার ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। অন্যান্য খরচ যেমন যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচালন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবার আলাদাভাবে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ডিজেলের দাম যতটা বেড়েছে, মূলত সেই অনুপাতে বাসভাড়া সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রোববার বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বৈঠকে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং শহরাঞ্চলের বাসে ১৮ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়।

সম্প্রতি সরকার ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে গত এপ্রিলেও ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ওই সময় বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল।

বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা। দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এসব ভাড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হারে অতিরিক্ত ভাড়া যুক্ত হবে।

তবে দূরপাল্লার অনেক নন-এসি বাসে আসনসংখ্যা কমিয়ে যাত্রীদের জন্য তুলনামূলক বেশি জায়গা রাখা হয়। এসব বাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি সেতু ও সড়কের টোলও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হতে পারে।

বিআরটিএর বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ডিজেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর পরিবহন খরচ বেড়েছে। দ্রুত নতুন ভাড়া নির্ধারণ না করা হলে বিভিন্ন পরিবহন মালিক নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারেন, যা পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, আগেরবার শুধু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। এর মধ্যে যন্ত্রাংশসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। তবে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ না দিতে এবার মূলত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির হার অনুযায়ী ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।

বিআরটিএর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৮ ও ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব চূড়ান্ত নাও হতে পারে। মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে বিষয়টি পর্যালোচনার পর ভাড়ার পরিমাণ কিছুটা কমানো হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপনে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে বাস ছাড়াও ডিজেলে চলা ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও টেম্পোর মতো যানবাহনের পরিচালন ব্যয়ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে। তবে এসব মালবাহী যানবাহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। একইভাবে এসি বাসের ভাড়াও সাধারণত সরকার নির্ধারণ করে না; মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজেদের মতো করে তা নির্ধারণ করে থাকে।

অন্যদিকে নন-এসি বাস ও নগর পরিবহনের বাস-মিনিবাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করলেও বাস্তবে নির্ধারিত ভাড়া পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অতীতে জ্বালানির দাম কমার পর বাসভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি।

নতুন প্রস্তাব অনুমোদন পেলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই বাসভাড়ার নতুন কাঠামো কার্যকর হবে। তবে চূড়ান্ত ভাড়া কত হবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ওপরই নির্ভর করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টাংগাইলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা সা

টাংগাইলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা সা