ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর তীব্র যানজট নগরবাসীর মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে। এ সমস্যা টেকসইভাবে মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচলকে আরও নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সরাসরি কারিগরি সহায়তায় এ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।
ডিএসসিসির আওতাধীন প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলামটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগ মোড়। এসবের মধ্যে শাহবাগ মোড়েই বৃহস্পতিবার থেকে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।
আবদুস সালাম বলেন, শাহবাগে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এ উদ্যোগ শেষ হচ্ছে না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে খুব শিগগিরই ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসকের ভাষ্য, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিকভাবে ম্যানুয়ালি সংকেত দিতে হবে না। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং নাগরিক সচেতনতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি নগরবাসী ও চালকদের সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল মেনে চলা এবং ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং ও নির্দিষ্ট লেন যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ করেন।
ইন্টারসেকশনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভাসমান দোকান না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আবদুস সালাম আশা প্রকাশ করেন, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে নগরের মানুষের কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের রোদ-বৃষ্টিতে সড়কে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের পেশাগত কষ্টও কমবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সুফল ধরে রাখতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। ঢাকাকে একটি গতিশীল, নিরাপদ ও আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কালের দাবি ডেস্ক