দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৮ পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি, আর শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছে উদ্ধারকারী দল।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রথমে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র এক মিনিটেরও কম সময় পরে ৭.৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
সরকারি তথ্যমতে, অন্তত ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্যে, যেখানে বহু আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা ধসে পড়েছে। দেশটির প্রধান বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, এখনও দুই শতাধিক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন। এ পর্যন্ত শতাধিক আফটারশক বা পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, দেশ বর্তমানে একটি বড় জাতীয় সংকটের মুখোমুখি। তিনি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ অপসারণে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধার কথাও জানানো হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং অস্থায়ী আশ্রয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা জানা সম্ভব হবে না এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালের দাবি ডেস্ক