বিজয়ের এই রূপকথার মতো যাত্রার শুরুটা অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। পরিচালক বাবা এস. এ. চন্দ্রশেখর এবং গায়িকা মা শোবা চন্দ্রশেখরের হাত ধরে রুপালি পর্দায় বড় হলেও, ১৯৯২ সালে নায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম সিনেমা ‘নালাইয়া থেরপু’ বক্স অফিসে মারাত্মকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে। সে সময় তাঁর অভিনয় ও লুক নিয়ে চারদিকে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। তবে দমে যাননি বিজয়। বাবার পরিচালনায় ও দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়কান্তের সাথে দ্বিতীয় সিনেমা ‘সেন্দুরাপান্দি’-তে অভিনয় করে তিনি সাফল্যের দেখা পান। এরপর ১৯৯৪ সালে ‘রাসিকান’ সিনেমাটি সুপারহিট হওয়ার পর ভক্তরা ভালোবেসে তাঁকে ‘ইলাইয়া থালাপথি’ বা তরুণ কমান্ডার উপাধি দেন।
নব্বইয়ের দশকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে রাজত্ব করার পর, ২০০০ সালের পর বিজয়ের ক্যারিয়ারের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়। ২০০৩ সালের ‘থিরুমালাই’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি অ্যাকশন হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ২০০৪ সালের ব্লকবাস্টার ‘গিলি’ তাঁকে সুপারস্টারের খ্যাতি এনে দেয়। এরপর ২০০৭ সালে ‘পোক্কিরি’ সিনেমার মাধ্যমে মেগাস্টার রজনীকান্তের রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে বিজয়ের মেগাস্টার হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালের পর তাঁর ‘থুপ্পাক্কি’, ‘মেরসাল’, ‘মাস্টার’ ও ‘লিও’র মতো সিনেমাগুলো বক্স অফিসে একের পর এক আয়ের রেকর্ড গড়ে। সিনেমার পাশাপাশি তিনি তাঁর বিশাল ভক্ত সমাজকে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত করেন, যা পরবর্তীতে তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিজয় রাজনীতিতে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ‘তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগাম’ (টিভিকে) নামে নতুন দল গঠন করেন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে নিজের মূল লক্ষ্য বানান। নায়ক হিসেবে নিজের শেষ সিনেমা ‘জন নায়কন’ মুক্তির আগেই তিনি পুরোদমে ভোটের মাঠে নেমে পড়েন।
২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুতে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মে মাসের ৪ তারিখে ফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, বিজয়ের নতুন দল একাই ১০৮টি আসন জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছে। বিজয় নিজে যে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, দুটিতেই বিপুল ভোটে জয়ী হন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গঠন করেন বিজয়। আজ ২২ জুন, বিজয়ের ৫২তম জন্মদিনে তামিলনাড়ুর জনগণ শুধু এক প্রিয় নায়ককে নয়, বরং তাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে উদযাপন করছে।