ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 30, 2026 ইং
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড ছবির ক্যাপশন: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
ad728

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ এনেছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। বাকি পাঁচটি অভিযোগে প্রমাণের অভাবে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ে ৩ নম্বর অভিযোগে রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সংশ্লিষ্টতার দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং ৭ নম্বর অভিযোগে ষড়যন্ত্রের দায়ে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় ইনুকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। তিনি সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় আদালতের এজলাসে উপস্থিত থেকে রায় শোনেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশন এ রায়ে সন্তুষ্ট নয় এবং তারা উচ্চতর শাস্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে। অন্যদিকে, ইনুও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা যাবে।

প্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এবং একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে শুনানি শেষে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর গত ১ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন হাসানুল হক ইনু। প্রসিকিউশন আরও দাবি করে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে সংঘটিত অপরাধের জন্য তার ওপর 'সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি' বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায় বর্তায়।

তবে বিচার চলাকালে আসামিপক্ষ দাবি করে, প্রসিকিউশন ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে সরাসরি অপরাধে জড়িত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই।

উল্লেখ্য, হাসানুল হক ইনু ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট গ্রেপ্তার হন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৮৮, আহত দ

ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৮৮, আহত দ