ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এসআরবি গঠনে বিল, র‍্যাবের প্রায় সবকিছুই থাকছে নতুন বাহিনীতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 8, 2026 ইং
এসআরবি গঠনে বিল, র‍্যাবের প্রায় সবকিছুই থাকছে নতুন বাহিনীতে ছবির ক্যাপশন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনে। ছবি: সংসদ সচিবালয়ের সৌজন্যে
ad728


র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য আনা এসআরবি বিল-২০২৬ পরীক্ষা করে সংশোধিত আকারে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে বিলটি পর্যালোচনা করা হয়। আগামীকাল সংসদে বিলটি নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার বিলটি পাস হতে পারে বলে জানা গেছে।


সংসদীয় কমিটিতে থাকা বিরোধী দলের দুই সদস্য বিলটির বিভিন্ন বিষয়ে আটটি নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দিয়েছেন।

কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার থাকলেও প্রস্তাবিত এসআরবিতে আগের বাহিনীর কাঠামো প্রায় একইভাবে রাখা হয়েছে। এ কারণে তাঁরা বিলটির একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

বিরোধী সদস্যদের মতে, বিলটি দ্রুত পাস না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। তাঁদের প্রশ্ন, র‍্যাবের নাম পরিবর্তনের বাইরে নতুন বাহিনীতে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসছে, সেটি সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।


র‍্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে এবং এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়েছে বাহিনীটি। বিরোধী সদস্যদের আশঙ্কা, এসআরবির নিয়ম, তদারকি ও কার্যক্রম র‍্যাবের মতোই থাকলে বিদেশি সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে প্রকৃত সংস্কার হিসেবে দেখবে না।

তাঁরা বিশেষ করে নতুন বাহিনীর অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


বিলে প্রস্তাবিত অভিযোগ প্রতিকার কমিটি নিয়েও আপত্তি রয়েছে বিরোধীদের। তাঁদের যুক্তি, কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব হিসেবে এসআরবির কর্মকর্তাদের রাখলে তদন্তে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।

এ কারণে তাঁরা অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে সভাপতি করে স্বাধীন প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।


এসআরবি কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে কোথায় এবং কত সময়ের জন্য আটক রাখতে পারবে, সেটিও বিলে আরও পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে বিরোধী পক্ষ।

তাদের মতে, এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ থাকলেও সেগুলোর অবস্থান প্রকাশ এবং আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট নয়।

তারা প্রস্তাব করেছে, এসআরবির প্রতিটি দপ্তর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের অবস্থান সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির নাম, আটকের সময় ও স্থান, আইনি কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসা এবং থানায় হস্তান্তরের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।


বিরোধী সদস্যরা আরও বলেছেন, এসআরবি যে জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সেখানে মাসিক কার্যবিবরণী বা কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত।

তাঁদের মতে, এতে নতুন বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর প্রশাসনিক ও বেসামরিক পর্যায়ে নজরদারি বাড়বে।


মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আইনগতভাবে র‍্যাব বিলুপ্ত হলেও নতুন বাহিনীতে র‍্যাবের প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার বড় অংশই থাকছে।

র‍্যাবের বর্তমান জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, নথি এবং অন্যান্য সম্পদ এসআরবিতে স্থানান্তরিত হবে। র‍্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এসআরবির সদস্য হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া র‍্যাবের দায়দায়িত্ব, চুক্তি এবং চলমান মামলাগুলোও নতুন বাহিনীর নামে পরিচালিত হবে।


২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ সংশোধনের মাধ্যমে র‍্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাহিনীটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।

গুম ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, গুমবিষয়ক তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন র‍্যাব বিলুপ্ত বা সংস্কারের সুপারিশ করেছে।

২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।


সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বলা হয়েছে, অতীতে র‍্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নানা সময়ে অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো বাহিনীর অপব্যবহারের কারণে পুরো বাহিনীকে বিলুপ্ত করার পরিবর্তে দক্ষ জনবল ও বিদ্যমান সরঞ্জামকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে এসআরবির সদস্যদের প্রশিক্ষণ, পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটির প্রথম বৈঠকেও মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানান, কিছু আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কয়েকটি বিষয় আরও যাচাই করতে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিটি সরেজমিন তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা।

তিনি বলেন, অডিট আপত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত কমিশনের বিষয়টি উঠে এসেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের লাভের ওপর ৩০ শতাংশ কমিশন পাওয়ার কথা থাকলেও আয় থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি হিসাব কমিটি বড় ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিয়ে চিহ্নিত করে তালিকা দিতে মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে (সিএজি) নির্দেশ দিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ভিনদেশি ফুটবলের ৯০ মিনিট ও আমাদের লাল-সবুজ আত্মোপলব্ধি

ভিনদেশি ফুটবলের ৯০ মিনিট ও আমাদের লাল-সবুজ আত্মোপলব্ধি