ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আগামী বছরে সব চা শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 17, 2026 ইং
আগামী বছরে সব চা শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে : প্রধানমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:
ad728
আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আমার সরকার আজকে চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি।’ 

এসময় আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় সব নারী চা শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ২০ বছরের অধিক সময় পরে তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলে আসলেন।

তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমার জন্য আজকে একটা খুব আনন্দের দিন। কেন জানেন? আজকে থেকে কয়েক মাস আগে যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয়, আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনই সিলেটের জনসভা মঞ্চ থেকে বলেছিলাম যে, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা আমাদের চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে যেসব মায়েরা কাজ করেন তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেব।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া জানাই, লক্ষ শুকরিয়া জানাই যে, আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আমার সরকার আজকে চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে যখন দেশে জনগণ যখন ফুঁসে উঠেছিল গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য, তখন অনেক বড় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা এ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিলেন- বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমার শেষ ঠিকানা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হলাম খালেদা জিয়ার সৈনিক। তাই এই দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কাজেই আসুন, এই দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এই দেশে আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।

দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সবাইকে একসঙ্গে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেজন্য পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদেরকে সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, সেজন্যই নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটির মতো পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম যে, আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমে সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, বিশেষ করে নারী প্রধানদের কাছে। আমরা নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক মাসেরও কম সময়ের ভেতরে আমাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ঘর প্রদানের জন্য ২ লাখ টাকা করে দিয়েছি। এখানে স্টেজের মধ্যে তিনজনের হাতে সেই ২ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছি আর প্রশাসনের মাধ্যমে বাকিদের কাছে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই টাকা পৌঁছে দেব।’

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে, আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে একটাই- করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এবং একই সঙ্গে আরেকটা নতুন কথা বলি, করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স