ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৬.৪৩ শতাংশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 16, 2026 ইং
ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৬.৪৩ শতাংশ ছবির ক্যাপশন: ইউরোপে কমেছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছবি: সংগৃহীত
ad728


ঢাকা, ১৬ আগস্ট: যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইউরোপের বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ২৭ দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

ইইউর পরিসংখ্যান অফিস ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে ৮৬৪ কোটি ৪৮ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ইউরো।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৭০ কোটি ইউরো।

ইইউতে প্রতিযোগী প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পতন হয়েছে তুরস্কের, ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। ভারতের রপ্তানি কমেছে ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

তবে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে চীন, বাংলাদেশ, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউর ক্রেতারা মোট ৪ হাজার ১১০ কোটি ১৭ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানিও ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ কম।

ইইউর পোশাকের বাজারে বরাবরই চীনের আধিপত্য রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটি ইইউতে ১ হাজার ১৮২ কোটি ২৬ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে চীনের রপ্তানিও আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে।

চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। তবে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পতন তুলনামূলকভাবে বেশি।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আর পোশাক রপ্তানি থেকে অর্জিত মোট আয়ের ৬০ শতাংশের বেশি আসে ইউরোপের বাজারগুলো থেকে। ফলে ইইউতে রপ্তানি কমে যাওয়া দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।

ইইউতে চীন ও বাংলাদেশের পর তুরস্ক, ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তুরস্ক ৩৭৪ কোটি ৭৩ লাখ ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে। দেশটির রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।

ভারত রপ্তানি করেছে ২৩৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউরোর পোশাক, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম ২০৬ কোটি ৫২ লাখ ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে। দেশটির রপ্তানি কমেছে মাত্র ০ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এ ছাড়া কম্বোডিয়ার রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ, মরক্কোর ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

ইইউর বাজারে চীনের চেয়ে বাংলাদেশ বেশি পরিমাণে পোশাক রপ্তানি করলেও রপ্তানি মূল্যের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে চীন ৫৯ কোটি ৬২ লাখ কেজি তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৬২ কোটি ৩০ লাখ কেজি।

তবে বাংলাদেশের রপ্তানি করা পোশাকের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে চীনের রপ্তানি পরিমাণ কমেছে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

মূল্যের ক্ষেত্রে পার্থক্য আরও স্পষ্ট। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীন প্রতি কেজি তৈরি পোশাক গড়ে ১৯ দশমিক ৮৩ ইউরো দরে রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশ প্রতি কেজি পোশাক রপ্তানি করেছে ১৩ দশমিক ৮৮ ইউরো দরে।

বাংলাদেশের এই ইউনিট মূল্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। চীনের ইউনিট মূল্য কমেছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

অন্যদিকে তুরস্ক, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি করা প্রতি কেজি পোশাকের দাম বেড়েছে। ভারতের ইউনিট মূল্য কমেছে ২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি ভালো নয়। বিশ্ব পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও পোশাক খাতের জন্য অনুকূল নয়। গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে উৎপাদন ও ব্যবসার পরিবেশ চাপে রয়েছে।

ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমার তিনটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, ইউরোপের বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমেছে। দ্বিতীয়ত, চীন ইউরোপের বাজারে আগ্রাসী বিপণনের মাধ্যমে ক্রয়াদেশ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তৃতীয়ত, ভারতের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তির কারণে কিছু ক্রয়াদেশ ভারতে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চীনের রপ্তানিকারকদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অনেক কারখানা ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে না। একই সঙ্গে ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি কারখানাগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে উৎপাদন ব্যয়, অর্থায়ন, জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইনফান্তিনোর বিরোধিতায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও কান

ইনফান্তিনোর বিরোধিতায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও কান