ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বলিভিয়ার নাগরিকদের রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বলিভিয়ার কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুশ সামরিক পোশাক পরিহিত কয়েকজন বলিভিয়ানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বলিভিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রজার মারিয়াকা মঙ্গলবার তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এ ঘটনায় কোনো মানবপাচার বা প্রতারণা চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ২৯ বছর বয়সী বলিভিয়ান নাগরিক হোসে মারিয়া সোলেতোকে যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে তার এক চাচাতো ভাই এবং পেরু ও কলম্বিয়ার বলে ধারণা করা আরও দুজন ব্যক্তিও ছিলেন।
এরই মধ্যে সোলেতোর স্ত্রী স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধে তার স্বামী নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল রেড উনো-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে সোলেতোকে রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ১৬ হাজার মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাকে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পাঠানো হয়।
একই ধরনের অভিযোগ তদন্ত করছে পেরু ও কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষও। তাদের সন্দেহ, বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে রাশিয়ায় নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, লিমায় অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস স্বীকার করেছে যে কয়েকজন পেরুর নাগরিক রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের জন্য চুক্তি করেছেন। তবে দূতাবাসের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় এবং আইনসম্মতভাবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বলিভিয়ার এই তদন্ত সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

কালের দাবি ডেস্ক