ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সার্বিয়ার নির্বাচনে ভুচিসের পরাজয় স্বীকার, এগিয়ে তরুণদের সমর্থিত জোট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
সার্বিয়ার নির্বাচনে ভুচিসের পরাজয় স্বীকার, এগিয়ে তরুণদের সমর্থিত জোট ছবির ক্যাপশন: নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে তরুণদের সমর্থিত জোট এগিয়ে থাকার খবরের পর বেলগ্রেডের রাজপথে উল্লাস করেন সমর্থকেরা।
ad728

ইউরোপের দেশ সার্বিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের আগেই পরাজয় স্বীকার করেছেন দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা আলেকসান্দার ভুচিস। প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতা অনুযায়ী, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সমর্থিত বিরোধী জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ভুচিস বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলের গতিপ্রকৃতি থেকে স্পষ্ট যে বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, স্টুডেন্ট লিস্ট ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। আর তাঁর দল পেতে পারে প্রায় ১০৫টি আসন। সার্বিয়ার পার্লামেন্টে মোট আসন ২৫০টি।

নির্বাচনের ফলাফলে এই প্রবণতা সত্য হলে তা দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই আন্দোলন থেকেই উঠে এসেছে স্টুডেন্ট লিস্ট।

সার্বিয়ার নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া বিলুপ্ত হওয়ার পর এটিকে দেশটির সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুচিসের পরাজয় স্বীকারের ঘোষণার পর বেলগ্রেডে স্টুডেন্ট লিস্টের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ফোনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটির কার্যালয়ে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সমর্থকেরা নেচে-গেয়ে উদ্‌যাপন করেন।

স্টুডেন্ট লিস্টের প্রার্থী রাদোমির সাইসিস বলেন, প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় সব ভোটকেন্দ্রেই শিক্ষার্থীদের বাছাই করা প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তিনি এই ফলাফলকে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করেন।

সার্বিয়ার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে ছিল দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নোভি সাদে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। ওই ঘটনার পর তরুণেরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন।

ধীরে ধীরে আন্দোলনটি প্রায় দুই বছর ধরে চলা সরকারবিরোধী প্রতিবাদে রূপ নেয়। সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের সমর্থিত প্রার্থীরা এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ভুচিসের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) ২০১২ সাল থেকে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ওই বছর দলটির প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবেও ক্ষমতায় ছিলেন তিনি।

সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকায় ভুচিস পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রবণতা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

নির্বাচনে রেকর্ড ভোটার উপস্থিতির পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখানো ও পদ্ধতিগত অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ, ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিআরটিএ) জানিয়েছে, ৫০০টি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে তাদের প্রতিনিধিরা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কেন্দ্রে ভোটার বা নির্বাচনী কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছেন। সংস্থাটির মতে, কিছু কেন্দ্রে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায়ও ব্যর্থতা দেখা গেছে।

অন্যদিকে, সেন্টার ফর ফ্রি ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি জানিয়েছে, রোববার বিকেল ৫টা নাগাদ তারা সম্ভাব্য অনিয়মের প্রায় ২৬০টি অভিযোগ পেয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল ব্যালট পেপারের ছবি তোলা, দলবদ্ধভাবে ভোট দেওয়া এবং ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে জটিলতা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল বা নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

ভুচিস পরাজয় স্বীকার করার পর বেলগ্রেডের বিভিন্ন সড়কে সমর্থকেরা জড়ো হন। আতশবাজি, স্লোগান ও নাচ-গানের মাধ্যমে তাঁরা আনন্দ প্রকাশ করেন। স্টুডেন্ট লিস্টের সমর্থকেরা গাড়ি নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন এবং হর্ন বাজিয়ে উদ্‌যাপনে অংশ নেন।

রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে পার্লামেন্ট ভবন ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের মাঝামাঝি একটি ছোট পার্কে প্রায় ১৮ মাস ধরে এসএনএসের সমর্থকেরা তাঁবু টানিয়ে অবস্থান করছিলেন। নির্বাচনের পর সেখানে জড়ো হওয়া মানুষ তাঁবুগুলো ভেঙে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনের আগে ইউনিভার্সিটি অব বেলগ্রেডের গবেষক জেলেনা ভাসিলজেভিক বলেছিলেন, এসএনএসের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে সাধারণত ভোট দেন না—এমন মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনতে পারা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সার্বিয়ার নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের পরই পার্লামেন্টে দলগুলোর চূড়ান্ত আসনসংখ্যা এবং পরবর্তী সরকার গঠনের পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন