বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উচ্ছেদ বা চলাচল বন্ধ করা যাবে না বলে দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতি। সংগঠনটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য সুশৃঙ্খল নীতিমালা প্রণয়ন, প্রয়োজনে রিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরি এবং রিকশা শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সভাপতি জামাল সিকদারের সভাপতিত্বে এবং আহসান বিল্লালের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মুশতাক।
এ সময় বক্তব্য দেন বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা তুহীন রহমান, হারুনুর রশিদ, কাজী মুজিবুল হক চুন্নু ও সেলিম মাহমুদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের লাখ লাখ রিকশা শ্রমিকের জীবিকা বিবেচনা না করে হঠাৎ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন। তাই অটোরিকশা উচ্ছেদ বা চলাচল বন্ধের আগে শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের জন্য সরকারকে একটি সুশৃঙ্খল ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজনে রাস্তায় রিকশার জন্য পৃথক লেন তৈরি করতে হবে। অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করে সরকারি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শ্রমিকদের বৈধভাবে রিকশা চালানোর সুযোগ দিতে হবে।
রিকশা শ্রমিকদের জন্য সরকারি খরচে ন্যূনতম তিন মাসের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবিও জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ডাম্পিংয়ের নামে পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবাজি, রিকশার তার কেটে দেওয়া, সিট খুলে নেওয়া এবং শ্রমিকদের গালাগালি ও মারধরের ঘটনা ঘটছে। এসব হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই ভালো নয়। এর মধ্যে রিকশা শ্রমিকদের ন্যূনতম আয়ের পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে লাখ লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবার সংকটে পড়বে। এর ফলে দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
এ সময় নেতৃবৃন্দ ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি রিকশা শ্রমিকদের জন্য ‘রিকশা শ্রমিক কার্ড’ চালুর দাবি জানান। এর মাধ্যমে রিকশা শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, সরকার রিকশা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে না নিলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

কালের দাবি ডেস্ক