ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: মানবাধিকার ও মতপ্রকাশ নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 11, 2026 ইং
সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: মানবাধিকার ও মতপ্রকাশ নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ ছবির ক্যাপশন: সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
ad728


সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর প্রস্তাবিত খসড়ায় এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি খসড়াটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে আইনটির প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনে সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার—তিনটি ভিন্ন বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়েছে। এতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


টিআইবির মতে, খসড়ায় গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন করা, মানহানিকর বক্তব্য ও রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর বক্তব্যের মতো বিষয়গুলোর সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ফলে এসব বিধানের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইফতেখারুজ্জামান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আইনের এমন অস্পষ্টতা বিশেষ করে ভিন্নমত প্রকাশ এবং বাক্‌স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া যৌন হয়রানি ও ‘সেক্সটর্শন’-এর মতো অপরাধের সংজ্ঞা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়নি বলেও মনে করছে টিআইবি। এতে প্রকৃত অপরাধ আড়াল হওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।


খসড়া আইনের ৪৬(২) ধারায় ২৩ নম্বর ধারাকে অজামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ধারায় দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি ‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ এবং ‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে’—এ ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টিআইবির বক্তব্য, এসব বিষয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছামতো ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ভিন্নমত ও স্বাধীন মতপ্রকাশ আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


প্রস্তাবিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের কাঠামো নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি।

খসড়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ২৮ সদস্যের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সেখানে বেসরকারি পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনকে রাখার কথা বলা হয়েছে। তাঁদেরও সরকার মনোনয়ন দেবে।

টিআইবির মতে, এ ধরনের কাঠামো কাউন্সিলকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেতে পারে। তাই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে সক্ষম সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।


আইনের আওতায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কাউন্সিলের সদস্যদের ‘সরল বিশ্বাসে’ করা কাজের জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্তির যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছে টিআইবি।

সংস্থাটির মতে, এ ধরনের দায়মুক্তি আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান—এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কাউন্সিল স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে গঠন করা হলে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতাও সরকারের পরিবর্তে ওই কাউন্সিলের হাতে দেওয়া যেতে পারে।


সামগ্রিকভাবে প্রস্তাবিত আইনটি বর্তমান অবস্থায় অনুমোদন না করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, অংশীজন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতামত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

সংস্থাটি বলছে, প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খসড়াটি নতুন করে তৈরি করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সব নাগরিকের সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার রয়েছে, সেটিও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনকে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী সাজানোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
‘অভ্যুত্থানের অপার সম্ভাবনা ও অন্তর্গত দুর্বলতা নিয়েই আমরা হ

‘অভ্যুত্থানের অপার সম্ভাবনা ও অন্তর্গত দুর্বলতা নিয়েই আমরা হ