ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের বাণিজ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 13, 2026 ইং
ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের বাণিজ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ছবির ক্যাপশন: ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংগৃহীত ছবি
ad728

বাংলাদেশের বাণিজ্য অংশীদারের তালিকায় নতুন পরিবর্তন এসেছে। ভারতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে চীন এখনো শীর্ষে রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিসংখ্যানের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

একই সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়েছে ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ভারতের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রায় ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার বেশি।


বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে মার্কিন পণ্য আমদানির বৃদ্ধি। এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

আগের অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

গম, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সয়াবিন বীজ ও তুলার মতো পণ্যের আমদানি বৃদ্ধিতে এ পরিবর্তন বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়েছে।


এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো গম আমদানি করেনি বাংলাদেশ। কিন্তু গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২২৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের গম আমদানি করা হয়েছে।

একই সময়ে সয়াবিন বীজ আমদানির পরিমাণ প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৬২০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানিও ২৩০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানিও বেড়েছে। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।


দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বিমান ও জ্বালানি খাতেও। মার্কিন অ্যারোস্পেস কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

এর বাইরে সামরিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে বিপুল পরিমাণ মার্কিন কৃষি ও জ্বালানি পণ্য কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য এবং প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য কেনার বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থার কারণে দুই দেশের বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি স্থগিত করেছে। এর বিপরীতে ভারত কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ প্রত্যাহার করেছে।

ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে সংকোচন তৈরি হওয়ায় দুই দেশের অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে।


সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য অংশীদারদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। চীন শীর্ষে থাকার পর দ্বিতীয় অবস্থানে এখন যুক্তরাষ্ট্র, আর ভারত নেমে গেছে তৃতীয় অবস্থানে।

জ্বালানি, কৃষিপণ্য, বিমান ও অন্যান্য পণ্য আমদানি বাড়ার পাশাপাশি দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে এই অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংকট উত্তরণে মানুষ সরকারকে সময় দেবে,তবে অনির্দিষ্ট কালের জন্

সংকট উত্তরণে মানুষ সরকারকে সময় দেবে,তবে অনির্দিষ্ট কালের জন্