ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা দুই দিনের পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রথম দফায় প্রায় ৮০টি এবং পরদিন আরও প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও সমুদ্রপথে হামলার অবকাঠামো দুর্বল করা।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব হামলায় শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের পাশাপাশি হাসপাতাল, সেতু ও পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অংশ নয় বলে উল্লেখ করলেও প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন, যদিও আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে। তেহরান বলছে, চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ার মধ্যেই হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটন চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি—এই তিনটি ইস্যুই এখন দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক সংকটও আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

কালের দাবি ডেস্ক