ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গোল করতে না পারা, ঘরোয়া ফুটবলের ঘাটতি—বাংলাদেশ কোচের দুই দুশ্চিন্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 28, 2026 ইং
গোল করতে না পারা, ঘরোয়া ফুটবলের ঘাটতি—বাংলাদেশ কোচের দুই দুশ্চিন্তা ছবির ক্যাপশন: সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচ টমাস ডুলি। ছবি: বাফুফে
ad728

এশিয়ান কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলের পর বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলির চোখে দলের দুটি বড় সমস্যা ধরা পড়েছে—গোল করার দুর্বলতা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ঘরোয়া ম্যাচের ঘাটতি।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ আগের ম্যাচের তুলনায় বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলেছে। বল নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছে এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইও করেছে। তবে আক্রমণের শেষ মুহূর্তে কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাব আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

ম্যাচ শেষে ডুলি বলেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা হলো, গোল করার মতো তেমন কেউ নেই।’ তাঁর মতে, দলে এমন কোনো ‘নিখুঁত স্ট্রাইকার’ নেই, যিনি পাওয়া সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করতে পারেন। ফলে ভালো খেলেও ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে গোল করার সমস্যা শুধু জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সক্ষমতার বিষয় হিসেবে দেখছেন না ডুলি। এর সঙ্গে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামোরও সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে ডুলি বলেন, বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা খুব বেশি বড় নয়। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা ইন্দোনেশিয়ার মতো নিয়মিত ও শক্তিশালী লিগ বাংলাদেশে নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডুলির মতে, খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি সপ্তাহে ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলে খেলোয়াড়েরা নিজেদের ভুল শনাক্ত করে সেখান থেকে শেখার সুযোগ পান। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলারদের সেই সুযোগ সীমিত।

জাতীয় দলের প্রস্তুতিতেও এর প্রভাব পড়ে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ। আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় পাওয়া যায় না। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবল বা বিদেশি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা খেলোয়াড়দের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভর করতে হয়।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হারের পরও দলের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে সন্তুষ্ট ডুলি। তাঁর মতে, আগের ম্যাচের তুলনায় এবার খেলোয়াড়েরা বেশি সংগঠিত ছিল এবং প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা না দিলে শক্তিশালী দলের সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব—এটি তারা বুঝতে পেরেছে।

ফলাফল নিজেদের পক্ষে না গেলেও এই ম্যাচ থেকে পাওয়া শিক্ষা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কাজে লাগাতে চান ডুলি। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলে নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনের মাধ্যমে সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নিতে চান তিনি।

বাংলাদেশের ফুটবলে নিয়মিত ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও গোল করার সক্ষমতা—এই দুটি বিষয়ই এখন কোচ ডুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
তারেক রহমানের দিল্লি সফর কেন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ

তারেক রহমানের দিল্লি সফর কেন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ