ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ঢাকার রাস্তায় বদল আসছে? বিআরটিসির জন্য ২০০ ইলেকট্রিক বাস কেনার সিদ্ধান্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 8, 2026 ইং
ঢাকার রাস্তায় বদল আসছে? বিআরটিসির জন্য ২০০ ইলেকট্রিক বাস কেনার সিদ্ধান্ত ছবির ক্যাপশন: বিআরটিসির বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস।
ad728

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) জন্য ২০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে আনুমানিক ২০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে। এসব বাসের মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

সরকার দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতেও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিআরটিসির জন্য আরও ১০০টি ইলেকট্রিক বাস, ২৫টি চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে এবং যাত্রীসেবার মান বাড়বে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে গণপরিবহনের পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে।

প্রস্তাবিত ১০০টি ইলেকট্রিক বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিআরটিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু করা, কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি ব্যয় কমানো, আধুনিক ও টেকসই পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারের ঘোষিত সবুজ পরিবহন করিডোর বাস্তবায়নে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও স্পেয়ার পার্টস কেনায় ৩৫ কোটি, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি, পরিবহন, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য খাতে ২৫ কোটি এবং ডিপোসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ১০০টি বাস ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের জন্য আধুনিক ও টেকসই পরিবহনসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: ডিএমপি কমিশনার

আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: ডিএমপি কমিশনার