টানা ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং একাধিক স্থানে পাহাড়ধসের কারণে চট্টগ্রামে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। জেলার ১৬টি উপজেলা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও ফটিকছড়ি উপজেলার মোট ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে।
সরকারি হিসাবে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। এসব কেন্দ্রে প্রায় ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
ত্রাণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া এক হাজার ২০০ টন চালের মধ্যে ৭১০ টন বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বরাদ্দকৃত ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে দুর্গত মানুষের মধ্যে ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিলে বর্তমানে ৪৯০ টন চাল ও ২৫ লাখ টাকা মজুত রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

কালের দাবি ডেস্ক