ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পরোয়ানা হাতে পেলেই গ্রেপ্তার নয়, সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 14, 2026 ইং
পরোয়ানা হাতে পেলেই গ্রেপ্তার নয়, সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের ছবির ক্যাপশন: গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আগে কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে এর সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফাইল ছবি
ad728

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পেলেই কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না। পরোয়ানাটি আসল কি না, তা যাচাই করেই গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে নাগরিকদের হয়রানি বন্ধে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে সোমবার এ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়টি দেন।


আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আগে পুলিশের কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

সত্যতা যাচাইয়ের পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া যাবে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইজিপিকে একটি পরিপত্র জারি করে তা দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।


শুধু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, নালিশি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বলা হয়েছে, নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর পরিচয়পত্র মামলার নথির সঙ্গে সংযুক্ত রাখা নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে জেলা জজ, মহানগর জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজিএম) ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম)সহ দেশের সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে।


হাইকোর্ট বলেছেন, কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করতে হবে। তা না হলে আইনের ব্যত্যয় ঘটবে।

মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, আদালতের মাধ্যমে কোনো নাগরিক যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এ ধরনের হয়রানির ফলে একজন নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, পরে তা পূরণ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।


রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তিনি জানান, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আগে পুলিশের কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সেটির সত্যতা যাচাই করবেন। যাচাই শেষে পরোয়ানাটি সঠিক প্রমাণিত হলেই গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আইজিপিকে সার্কুলার জারি করে সেটি দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নিম্ন আদালতগুলোর বিচারকদের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ এফটিএ নিয়ে বাংলাদেশ-ভুটান আলোচন

বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ এফটিএ নিয়ে বাংলাদেশ-ভুটান আলোচন