ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মব সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঢাকায় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের জাতীয় কনভেনশন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 11, 2026 ইং
মব সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঢাকায় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের জাতীয় কনভেনশন ছবির ক্যাপশন: মব সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে ঢাকার জাতীয় নাট্যশালায় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের জাতীয় কনভেনশনে অংশ নেন কবি, লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
ad728


মব সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িকতা, মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত এবং শিল্প-সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’–এর জাতীয় কনভেনশন ২০২৬

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ কনভেনশন শুরু হয়। ‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক নূরুল কবীর।

বেলুন, পায়রা ও জাতীয় পতাকা উড়িয়ে উদ্বোধনের পর নাট্যশালা প্রাঙ্গণে একটি সাংস্কৃতিক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রবীণ ছাত্রনেত্রী দীপা দত্ত, লেখক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এবং সম্প্রতি কারাবরণকারী বাউলশিল্পী আবুল সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন।

কনভেনশনে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সংহতি সংস্কৃতি সংসদ, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও সংস্কৃতিকর্মী সমাজসহ ৩১টি কেন্দ্রীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দেশের প্রায় ৪৫টি জেলা থেকেও কবি, লেখক, শিল্পী ও সাহিত্যিকরা এতে যোগ দেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বর্তমানে এক ধরনের অলিখিত সেন্সরশিপ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মব জাস্টিসের নামে বাউল ও লোকশিল্পীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। স্বাধীন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে এ ধরনের প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী ও সাম্প্রদায়িক প্রবণতার বিরুদ্ধে দেশের সব প্রগতিশীল শক্তিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিল্প-সংস্কৃতির নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দুপুরের পর অনুষ্ঠিত হয় সাংগঠনিক ও প্রতিনিধি অধিবেশন। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার সাংস্কৃতিক সংকট, শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং এসব মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্বে সন্ধ্যা ৭টায় নাট্যশালার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে উদীচী, সংহতি সংস্কৃতি সংসদসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা গণসংগীত, নাটক ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এবার নিশানায় ইউক্রেন

এবার নিশানায় ইউক্রেন