ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মার্কিন নির্বাচন সামনে রেখে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকৌশলের ইঙ্গিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 5, 2026 ইং
মার্কিন নির্বাচন সামনে রেখে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকৌশলের ইঙ্গিত ছবির ক্যাপশন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত কয়েক মাস ধরে দীর্ঘায়িত করতে চাইতে পারে ইরান। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধ দীর্ঘ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলাই এর অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সংঘাত এখনো সীমিত পর্যায়ে থাকলেও ইরানের নেতৃত্ব ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ইরানের ধারণা আরও পরিষ্কার হয়েছে এবং সেই সক্ষমতার ওপর তাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।


গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দ্রুত শেষ করতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। বরং ইরান অন্তত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিতে পারে বলে ধারণা করছেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।

তাদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে তা ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিকভাবে সমস্যার কারণ হতে পারে।

ইরান এর আগে যে ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তিও ঘটতে পারে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।


সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি ইরানি হ্যাকারদের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের সাইবার সক্ষমতা কাজে লাগানোর প্রস্তুতিও নতুন করে সংগঠিত হতে পারে।

বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সাইবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করা এবং যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও ইরানের সাইবার সক্ষমতার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, আমেরিকানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত।


গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করেও মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে ইরান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী ফলাফলে ক্ষতি করতে পারে—এমন তথ্য ও প্রচারণা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতে পারে।

মেটার একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ইরান থেকে পরিচালিত একটি অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা হয়েছিল। এসব অ্যাকাউন্টে মূলত মার্কিন রাজনীতি নিয়ে পোস্ট করা হতো এবং রিপাবলিকানবিরোধী মতামত ছড়ানোর চেষ্টা দেখা গেছে। এর কিছু কনটেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল।


গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও আশঙ্কা করা হয়েছে, দীর্ঘ সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এতে মার্কিন বাহিনীকে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।

তবে এসব গোয়েন্দা মূল্যায়ন ইরানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও সক্ষমতা নিয়ে সতর্কতা; এগুলো যে ইরান ইতোমধ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন নিশ্চয়তা নয়।

সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সামরিক প্রভাবের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী, যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংল

মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী, যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংল