মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান কেভিন ওয়ারশ। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বেড়েছে। এর প্রভাবে ডলারের দাম বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে।
ওয়াইওমিংয়ের জ্যাকসন হোলে দেওয়া এক বহুল প্রত্যাশিত বক্তব্যে ওয়ারশ বলেন, মূল্যস্ফীতির অন্তর্নিহিত প্রবণতা ফেডের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার দিকে স্পষ্টভাবে ও যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। তা না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে।
ফেডপ্রধানের এই বক্তব্যকে বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কড়াকড়িমুখী বার্তা হিসেবে দেখছেন। বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে যায়। সাধারণত এসব বন্ডের সুদের হার ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির বিষয়ে বাজারের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায়।
এর ফলে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়তে পারে—এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোসহ প্রধান কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দরও দ্রুত বেড়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কাও মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, শীতকাল পর্যন্ত জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
ওয়ারশ বলেন, মূল্যস্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান পরিসংখ্যানগুলো উদ্বেগজনক। তবে একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং দেশটির কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিকে ভালো বলে উল্লেখ করেন।
ফেডপ্রধানের বক্তব্যের পর প্রথম দিকে ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও পরে সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়। দিন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়। (BSS)
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ স্টিফেন ব্রাউনের মতে, জ্যাকসন হোলে দেওয়া ওয়ারশের বক্তব্য গত জুলাইয়ের সংবাদ সম্মেলনের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট এবং কড়াকড়িমুখী ছিল। তবে তাঁর মতে, সুদের হার বাড়ানো এখনো নিশ্চিত নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকা এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকলে ফেড সুদের হার বাড়ানোর দিকে যেতে পারে।
এদিকে ইউরোপের বেশিরভাগ শেয়ারবাজার শুক্রবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে লেনদেন শেষ করেছে। প্যারিসের বাজারের প্রধান সূচক বেড়েছে ১ শতাংশ। এশিয়ার বাজারগুলোর মধ্যেও টোকিও ও হংকংয়ে ঊর্ধ্বমুখী লেনদেন হয়েছে। বিপরীতে সিউল ও সাংহাইয়ের বাজারে পতন দেখা গেছে।
প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোও আগের দিনের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। এর আগে এনভিডিয়ার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মুনাফা এবং ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে আশাবাদী পূর্বাভাসের কারণে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের উত্থান হয়েছিল।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সংকেত এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম সামান্য কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। (BSS)

কালের দাবি ডেস্ক