দেশে বর্তমানে স্বপ্নচারী, নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্বের বড় ধরনের খরা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, দেশ ও মানুষের জন্য নিজেকে নিঃস্বার্থভাবে উৎসর্গ করতে পারেন—এমন নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বের অভাব আজ গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রাক্তন সভাপতি কমরেড খন্দকার আলী আব্বাসের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংহতি মিলনায়তনে প্রয়াত নেতা খন্দকার আলী আব্বাসের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নেতৃত্বে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান ও মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় সদস্য রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় ন্যাপ ভাসানীর কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম মিন্টু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শুভাকাঙ্ক্ষী পলাশ চৌধুরী এবং খন্দকার আলী আব্বাসের ভাগ্নে শহীদুর রহমান রহমত উপস্থিত ছিলেন।
পরে ‘খন্দকার আলী আব্বাস ও তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাইফুল হক বলেন, কমরেড খন্দকার আলী আব্বাস ছিলেন দেশ ও মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, স্বপ্নচারী ও আদর্শবাদী রাজনৈতিক নেতা। বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল, বিশেষ করে ঢাকা ও মানিকগঞ্জে তিনি ছিলেন কিংবদন্তীতুল্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং বামপন্থী রাজনীতির বিকাশে খন্দকার আলী আব্বাসের দীর্ঘদিনের ভূমিকা স্মরণ করে সাইফুল হক বলেন, আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার মতো নেতাদের জীবন ও আদর্শ নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনস্তত্ত্ব ও আচরণে বড় কোনো পরিবর্তন এসেছে—এমন লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, রাজনীতি ক্রমেই দ্রুত ক্ষমতা ও অর্থবিত্ত গড়ে তোলার হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যেও ক্ষমতা ও ক্ষমতার মোহ তৈরি করে তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাইফুল হক বলেন, কমরেড খন্দকার আলী আব্বাসের রাজনৈতিক জীবন বর্তমান প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশ ও মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে উৎসর্গ করার যে রাজনৈতিক আদর্শ ও মূল্যবোধ তিনি ধারণ ও চর্চা করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সেই আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
সভার শুরুতে কমরেড খন্দকার আলী আব্বাসের বিপ্লবী স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

কালের দাবি ডেস্ক