গত এক সপ্তাহে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ৪২ জন নিহত এবং আরও ২৮৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মস্কো। রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনী বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করে ৫ হাজার ১০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে।
রুশ বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ রাষ্ট্রদূত রোডিয়ন মিরোশনিক এ তথ্য জানিয়েছেন। তার দাবি, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের হামলায় মোট ৩২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নয়জন অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৮৫ জন আহত এবং দুই শিশুসহ ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
মিরোশনিকের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বেলগোরোদ ও ভোরোনেজ অঞ্চল, দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক, জাপোরোজিয়ে এবং খেরসন অঞ্চলে। তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন হামলার পাশাপাশি রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মাইনও পেতে রাখছে।
তার দাবি, ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের নিজনিয়ে গ্রামের একটি উৎপাদন কারখানায় বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এছাড়া বেলগোরোদ অঞ্চলের প্লোস্কোয়ে গ্রামে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
রুশ এই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবার যানবাহনকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। তার মতে, খেরসন অঞ্চলে একটি ইউক্রেনীয় এফপিভি (FPV) ড্রোন হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে চালকের আসনে থাকা এক নারী প্যারামেডিক নিহত হন এবং চালক গুরুতর আহত হন। এছাড়া জাপোরোজিয়ে অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ভাসিলিয়েভস্কায়া কেন্দ্রীয় জেলা হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ১৫ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়ার আশা করছে ইউক্রেন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সচল রাখা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সহায়তা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক সেনা ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। তবে সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, অ্যাংকোরেজ ও ইস্তাম্বুল চুক্তি এবং বর্তমান বাস্তবতাকে ভিত্তি করে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া।
কালের দাবি ডেস্ক