জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষবার মাঠে নামার আয়োজন চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচ দিয়েই দেশের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ ও বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মেসির বিদায়ী ম্যাচের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তাপিয়া বলেন, বিশ্বের সেরা ফুটবলার ও আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক মেসিকে দেশের মাটিতে প্রাপ্য বিদায় দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিদায়ী ম্যাচটি শুধু মেসিকে ঘিরে থাকছে না। একই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার আরও দুই তারকা রদ্রিগো দে পল ও শিওভানি লো সেলসোও জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন।
এএফএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৬ অক্টোবরের শেষ প্রীতি ম্যাচে মেসি, দে পল ও লো সেলসো উপস্থিত থাকবেন। স্থানীয় লিগ থেকে এই ম্যাচের জন্য সুযোগ পাওয়া ফুটবলারদের নাম শুক্রবার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দেরও ম্যাচটিতে আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছে এএফএ।
মেসির বিদায়ী ম্যাচের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে আফ্রিকার দেশ বেনিন।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বেনিনের অবস্থান বর্তমানে ৯৩তম। দেশটি এখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। ২০০৪ সালে প্রথমবার আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা।
এরপর আরও তিনবার এই প্রতিযোগিতার মূল পর্বে খেলেছে বেনিন।
তবে এবার বিশ্ব ফুটবলে দলটির পরিচিতি বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মেসির বিদায়ী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হওয়া।
৬ অক্টোবরের আগে আর্জেন্টিনা দেশের মাঠে আরও দুটি ম্যাচ খেলবে।
৩০ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিপক্ষ বলিভিয়া এবং ৩ অক্টোবর খেলবে বুর্কিনা ফাসোর বিপক্ষে। এরপর ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিকে মেসির বিদায়ী আয়োজন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এর পেছনে রয়েছে ফিফার শাস্তিও।
আর্জেন্টিনার ওপর আরোপ করা শাস্তির অংশ হিসেবে তাদের পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধারণক্ষমতার অর্ধেক দর্শক নিয়ে আয়োজন করতে হবে। ফলে তিনটি হোম ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় ম্যাচটিকে মেসির বিদায়ী আয়োজনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
গত বিশ্বকাপের পর বিভিন্ন ঘটনায় আর্জেন্টিনাকে একাধিক জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
এর বেশির ভাগই স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হারের পর ম্যাচ-পরবর্তী আচরণকে কেন্দ্র করে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে ‘ক্রীড়াবহির্ভূত কার্যকলাপের’ জন্য ব্যবহারের অভিযোগও এনেছিল ফিফা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি করে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। এই ঘটনাও ফিফার শাস্তির কারণগুলোর মধ্যে ছিল।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির বিদায়ের সিদ্ধান্ত অবশ্য হঠাৎ আসেনি।
গত বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর তার চোখে ছিল অশ্রু। পরে গত মাসে বাবার মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে দেশের জার্সিতে আর খেলবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
এরপর ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি।
তবে ক্লাব ফুটবলে এখনো দারুণ ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। ইন্টার মায়ামির হয়ে চলতি মৌসুমে ২২ ম্যাচে ১৯ গোল করার পাশাপাশি ১৩টি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি।
এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বার লিগের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পাওয়ার দৌড়েও রয়েছেন মেসি।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিদায়ী ম্যাচ তাই শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ নয়; এটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজনও।
দেশের জার্সিতে দীর্ঘ পথচলায় বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকাসহ একাধিক শিরোপা জয়ের পর এবার নিজের দেশের মাটিতেই সতীর্থ, সমর্থক ও আর্জেন্টাইন ফুটবলের সঙ্গে বিদায়ের মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এই তারকা।
৬ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসে বেনিনের বিপক্ষে সেই ম্যাচেই শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে দেখা যাবে মেসিকে।

কালের দাবি ডেস্ক