ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সংসদে বা বিরোধী দলের লংমার্চে শ্রমিকের জীবন ও মজুরি সংকটের স্থান নেই: সাইফুল হক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 17, 2026 ইং
সংসদে বা বিরোধী দলের লংমার্চে শ্রমিকের জীবন ও মজুরি সংকটের স্থান নেই: সাইফুল হক ছবির ক্যাপশন: জাতীয় প্রেস ক্লাবে শ্রমিক সংহতি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। ছবি: কালের দাবি।
ad728


সংসদ কিংবা বিরোধী দলের লংমার্চে কোটি কোটি শ্রমিকের জীবন, জীবিকা ও মজুরি সংকটের যথাযথ স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। নামমাত্র মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জীবন ধারণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে মহার্ঘ ভাতা ও সর্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি আয়োজিত ‘দেশের শ্রম পরিস্থিতি, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাইফুল হক।

তিনি বলেন, দেশের পোশাকশিল্পসহ পুরো শিল্পশৃঙ্খল শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অথচ বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও তাদের পরিবারের পর্যাপ্ত খাবার ও পুষ্টি নিশ্চিত হচ্ছে না। বর্তমান বাজারদরে ঢাকায় পাঁচ সদস্যের একটি শ্রমিক পরিবারের মানবিক জীবনযাপনের জন্য মাসে অন্তত ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই বাস্তবতায় নামমাত্র মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জীবন ধারণ সম্ভব নয়।

সাইফুল হক বলেন, সচেতন শ্রমিক কখনো কারখানা ধ্বংস করতে চান না। কারণ কারখানা টিকে থাকলেই শ্রমিকের কর্মসংস্থান টিকে থাকবে। তবে শ্রমিকরা ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামলে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ কিংবা সন্ত্রাসী ব্যবহার করে তাদের দমন করার অভিযোগ রয়েছে। এভাবে দমনপীড়ন চালিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন থামানো যাবে না।

গার্মেন্টস খাতে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক কাজ করলেও তারা মজুরি বৈষম্য ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমবাজারকে গুটিকয়েক ব্যক্তির একচেটিয়া মুনাফার ক্ষেত্র হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন সাইফুল।

তিনি বলেন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অবিলম্বে মহার্ঘ ভাতা ও সর্বজনীন রেশনিং চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পেশাজীবী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুত জাতীয় মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।

শুধু সেমিনার ও আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকৃত পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বাংলাদেশ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক সভাপতিত্ব করেন এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সঞ্চালনা করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও মাইশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর বিজিএমইএ স্কুলের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফয়েজ হোসেন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান এবং বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সংগঠক আর ইউ হাবিব।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজ আলী।

বহ্নিশিখা জামালী বলেন, শ্রম আন্দোলন শুধু গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গৃহকর্মীসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। দেশের কোটি কোটি নিয়মিত শ্রমিকের পাশাপাশি প্রতিবছর নতুন করে শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়া ১৮ থেকে ২০ লাখ শ্রমিকের জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি দিয়ে ২০ দিনও ভালোভাবে চলা কঠিন। অন্যদিকে সমাজের একটি অংশ বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক কর্মরত থাকলেও তারা মজুরি বৈষম্য, নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সমতাভিত্তিক ও অধিকারমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন খাতে যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডলারের দর, ব্যাংকিং জটিলতা ও বিভিন্ন নীতিগত সমস্যায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে সেই অনুপাতে দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বেকারত্ব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিল্প ও শ্রম খাতে স্বীকৃতিহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক খাতের পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমিকের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও যথাযথভাবে গণমাধ্যমে উঠে আসছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের বঞ্চনা ও ঝুঁকির মধ্যে রেখে টেকসই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজ আলী।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা