ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 2, 2026 ইং
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছবির ক্যাপশন: ডেঙ্গি বা ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা
ad728


বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। আগস্ট মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতেই এক দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হিসাবের বাইরে থাকা রোগীসহ প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

সামনে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বরেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। এডিস মশার ঘনত্ব, রোগীর সংখ্যা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ঢাকার পাশাপাশি বরিশাল ও চট্টগ্রামেও ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্য। ঢাকার বাইরে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বেড়ে যাওয়াই সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। সাধারণভাবে মশা নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে কোন এলাকায় কোথায় এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে, তা শনাক্ত করে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে। বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে নারীদের চিকিৎসা নিতে দেরি করা, ঘরের দায়িত্বের কারণে হাসপাতালে যেতে অনীহা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক বাধাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়লে হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় তাই শুধু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নয়, একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি, জলাবদ্ধতা দূর করা এবং এলাকাভিত্তিক কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


সৌজন্যে: বিবিসি বাংলা

নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পুনর্মিলন

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পুনর্মিলন