ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান–চীনের সীমান্ত চুক্তিতে ভারতের আপত্তি কেন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 23, 2026 ইং
পাকিস্তান–চীনের সীমান্ত চুক্তিতে ভারতের আপত্তি কেন ছবির ক্যাপশন: পাকিস্তান–চীনের সীমান্ত উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ভারত।
ad728

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে হিমালয়ের একটি বিতর্কিত অঞ্চলের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন উদ্যোগে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ভারত। গত সপ্তাহে দুই দেশ যৌথ সীমান্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে চুক্তি করে। পাকিস্তান এটিকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগ সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও ভারত বলছে, এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

চুক্তির আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তবে ভারত অঞ্চলটিকে নিজেদের লাদাখের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং পাকিস্তান–চীন চুক্তিকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ওই ভূখণ্ড নিয়ে কোনো সীমান্ত স্বীকৃতি দেওয়ার এখতিয়ার পাকিস্তানের নেই। দিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের দখলে থাকা ওই ভূখণ্ডকে ঘিরে কোনো ধরনের চুক্তি ভারতের সার্বভৌমত্বের দাবিকে প্রভাবিত করতে পারে না।

অন্যদিকে পাকিস্তানের অবস্থান হলো, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড। ফলে ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে করা সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে ইসলামাবাদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সীমান্ত কমিশন পুরোপুরি নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়। ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান–চীন সীমান্ত চুক্তিতেই যৌথ সীমান্ত কমিশনের কথা ছিল। এখন সেটিকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর পেছনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সুরক্ষার বিষয়ও রয়েছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যুতে চীন পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখছে—এমন বার্তাও দেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন।

তবে এ উদ্যোগকে ভারতের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসিতে এর সরাসরি ও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও তারা দেখছেন না।

তারপরও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারত যেসব সীমান্ত ও ভূখণ্ড-সংক্রান্ত ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাখ্যান করে আসছে, পাকিস্তান ও চীন সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ–কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।

পাকিস্তান ও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি ভারত ও চীনের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধও এই পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে নতুন সীমান্ত কমিশনের উদ্যোগ তাৎক্ষণিক সীমান্ত পরিবর্তনের চেয়ে দুই দেশের কৌশলগত অবস্থান ও আঞ্চলিক সম্পর্কের দিক থেকে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডিজিটাল লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ঋণের উদ্যোগ বাংলাদেশ

ডিজিটাল লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ঋণের উদ্যোগ বাংলাদেশ