নেপালে আকস্মিক ভূমিধস ও বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে নেপাল পর্যটন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্যমতে, ৪০৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৬১ জন নেপালি এবং ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা ২৬টি দেশের নাগরিক।
ট্যুর অপারেটরদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের বেশির ভাগই ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রসুয়ার ভোতকোশি নদী এলাকা থেকে পুলিশ ১১৪ জনকে উদ্ধার করেছে। নেপাল টিভি ও রেডিও নেপালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সেনাবাহিনীও ৮০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে ২৯ জনকে বেসরকারি হেলিকপ্টারে করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
দুর্যোগে নদীতীরবর্তী জনপদগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে অনেক জায়গায় পুরো গ্রাম ভেসে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত ও মর্মাহত বলে উল্লেখ করেন। তিনি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বালেন্দ্র শাহ বলেন, উদ্ধার অভিযান শুরু করতে সরকার কোনো ধরনের বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কালের দাবি ডেস্ক