ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। শুক্রবারের এ হামলার সময় একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দেশটির সরকারের তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি বিমানটি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার বা ১ হাজার ৬৪০ ফুট দূরে পড়ে।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, উড়োজাহাজটির যাত্রী ও ক্রুদের সবাই নিরাপদে আছেন। সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানোয় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিমানবন্দরে এ হামলাকে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের একটি সামরিক সূত্রের বিবৃতিতে এডেন প্রদেশের বদর সামরিক শিবিরে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একটি অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলার কথা জানানো হয়েছে। তবে বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সঙ্গে ওই হামলার সম্পর্ক সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিমানবন্দরে হামলার আগের দিন, বৃহস্পতিবার, এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হন বলে আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হয় এ প্রাসাদ থেকে।
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত আরও জোরালো হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, তারা রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে মারিব প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অগ্রসর হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি বলেন, আকাশপথের সহায়তায় এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
মাজেদ আল-নাজিলির দাবি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনী ৪৩০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করেছে। একই সময়ে হুতিদের শতাধিক যান ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব সামরিক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ইয়েমেনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতপূর্ণ এলাকা তাইজেও লড়াই চলছে। সরকারি বাহিনী সেখানে হুতিদের কয়েকটি বড় হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। পাশাপাশি হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষায়িত ড্রোন পরিচালনাকারী দলকে আটক করার কথাও জানিয়েছে তারা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় তাইজ শহর ঘিরে হুতিদের তৎপরতা বেড়েছে এবং শহরটির সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেনের সংযোগকারী প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলমান সংঘাতে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এডেন বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কালের দাবি ডেস্ক