ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। সোমবার (১৩ জুলাই) এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যে আইআরজিসির সদস্যপদ গ্রহণ, তাদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বা সংগঠনটির প্রতীক ও লোগো প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নতুন এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ধরনের সংগঠিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইআরজিসি আগে থেকেই যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর গঠিত এই বাহিনী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীন একটি প্রভাবশালী সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করে বাহিনীটি।
এর আগে দীর্ঘ সংঘাতের পর উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে একাধিক দফায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সর্বশেষ কূটনৈতিক আলোচনায় একটি সমঝোতার ভিত্তিতে ৬০ দিনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংঘাতে ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথমার্ধ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন বহু বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসাকর্মীও। চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যের নতুন সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কালের দাবি ডেস্ক