শিল্প-কলকারখানায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপুল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে।
তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগে যে পর্যায়ে ছিল, তার কাছাকাছি অবস্থায় ফিরে আসবে বলে সরকার আশা করছে।
গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
উপপ্রেস সচিব হাসান শিপুল বলেন, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে অনেকটাই এগিয়েছে। দ্রুত এর কাজ শুরু হবে।
সরকার ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালকে সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আশা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের এবং এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা। ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরো সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।
তবে সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং সমাধানের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু উদ্যোক্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো অর্থনীতিতেই এর প্রভাব পড়ে।
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়েছে।
সরকার বর্তমান সংকটের ব্যাপ্তি ও জটিলতা আড়াল না করে ব্যবসায়ী মহলের সামনে তুলে ধরেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সমস্যাগুলো কী এবং সেগুলো কীভাবে সমাধান করা হবে, সে বিষয়ে সরকার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ হওয়ার কারণ নেই।
সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তার মেয়াদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পেলে দেশের জন্য আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হবে। এজন্য দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না করে সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর মতে, জনগণ সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে পরিকল্পিত কাজগুলো শেষ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর মতে, সরকারি পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য না থাকলে বিচ্ছিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে এর সুফল শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষই পাবে।
মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
সভায় এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও আলোচকেরা সভায় অংশ নেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উপদেষ্টা, সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও উপস্থিত ছিলেন।

কালের দাবি ডেস্ক