ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ব্যাংকের এমডিদের জন্য নতুন কর্মমূল্যায়ন নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংকের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 13, 2026 ইং
ব্যাংকের এমডিদের জন্য নতুন কর্মমূল্যায়ন নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংকের ছবির ক্যাপশন: ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কর্মমূল্যায়নে ১০০ নম্বরের কাঠামো নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি
ad728


ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের দায়িত্ব ও কর্মদক্ষতা আরও নির্দিষ্টভাবে যাচাই করতে নতুন কর্মমূল্যায়ন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কাঠামোর আওতায় এমডি ও সিইওদের নির্ধারিত কর্মদক্ষতার সূচক বা কেপিআইয়ের ভিত্তিতে মোট ১০০ নম্বরে মূল্যায়ন করা হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে আগামী এক মাসের মধ্যে এমডি ও সিইওদের জন্য কেপিআই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। এসব লক্ষ্যমাত্রা তিন বছরের জন্য অথবা সংশ্লিষ্ট এমডির অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্ধারণ করা হবে। এরপর প্রতি ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে এবং সেই মূল্যায়ন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।


এমডি ও সিইওদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের পাশাপাশি তাঁদের বেতন-ভাতা, প্রণোদনা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণেও স্কোরকার্ড ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১০০ নম্বরের এই স্কোরকার্ডে পাঁচটি প্রধান সূচক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তহবিলের নিরাপত্তা ও তারল্য পরিস্থিতির জন্য ২৫ নম্বর, সম্পদের গুণগত মানের জন্য ২৫ নম্বর এবং সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, গ্রাহকসেবা ও বাজার আচরণের জন্য ১৫ নম্বর এবং মুনাফা অর্জনের জন্য রাখা হয়েছে ১০ নম্বর। সব মিলিয়ে পাঁচ সূচকে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে এমডি বা সিইওর কেপিআই মূল্যায়ন করা হবে।


মূল্যায়নে ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া এমডিকে ‘মানসম্মত’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ৬৫ থেকে ৭৫-এর কম নম্বর পাওয়া হলে সেটি ‘এভারেজ’ বা উন্নতি প্রয়োজন—এমন রেটিং হবে।

অন্যদিকে, কোনো এমডি ৬৫-এর নিচে নম্বর পেলে তাঁকে ‘বিলো এভারেজ’ বা অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এমডিকে বাংলাদেশ ব্যাংক নোটিশ দিতে পারবে।

ধারাবাহিকভাবে খারাপ কর্মদক্ষতা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট এমডির মেয়াদ বাড়ানো নাও হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিচালনা পর্ষদকে এমডিকে অপসারণের নির্দেশও দিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


এমডিদের কর্মদক্ষতা যাচাইয়ে ন্যূনতম ৩০টি কেপিআই নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে নম্বর কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কোনো কেপিআইয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্জন করতে পারলেই ওই সূচকে নম্বর পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ৫০ শতাংশের কম অর্জন হলে সংশ্লিষ্ট কেপিআইয়ে কোনো নম্বর দেওয়া হবে না। তবে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অর্জন হলে অর্জনের মাত্রা অনুযায়ী আনুপাতিক নম্বর যোগ হবে। শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করলে পাওয়া যাবে পূর্ণ নম্বর।


নতুন মূল্যায়ন কাঠামোয় খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমানত-ঋণ অনুপাত, মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত এবং প্রকৃত খেলাপি ঋণের অনুপাত—এসব সূচক এমডিদের কর্মদক্ষতা নির্ধারণে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া বড় ঋণ ও শীর্ষ ঋণগ্রহীতাদের কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি, খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণ আদায় এবং সিএমএসএমই, কৃষি, গ্রিন ফাইন্যান্স ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।

এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশের কম অর্জন হলে সংশ্লিষ্ট এমডির নম্বর কমবে। ফলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের সক্ষমতা এখন এমডিদের কর্মমূল্যায়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বন্যাদুর্গতদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দ

বন্যাদুর্গতদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দ