ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এমপি মিষ্টির পদত্যাগের নির্দেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 1, 2026 ইং
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এমপি মিষ্টির পদত্যাগের নির্দেশ ছবির ক্যাপশন: ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিছবি: ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ফেসবুক পেজ থেকে
ad728

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে তাঁকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি যেকোনো সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তাঁকে জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকেও তদন্ত চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকার ও বিএনপির বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য, তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে এসেছে। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন এবং এর পেছনে কারও রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের নামও আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো তাঁদের ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আলোচনায় আসে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সংগঠন। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনের সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৬ সালে ফেরদৌসী আহমেদ শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে ফেরদৌসী আহমেদের স্বাক্ষর ছিল বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদের সরাসরি ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তবে ঘটনার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রের দাবি, একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় বিষয়টি দল ও সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়তে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের আহ্বান

ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়তে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের আহ্বান